আন্তর্জাতিক বাজারে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে এখনো পণ্যটির দাম প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি রয়েছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি স্থির হয়েছে ৭০ ডলার ৬৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ২০ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কম। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার ২১ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ২১ সেন্ট বা দশমিক ৩২ শতাংশ কম।
অ্যাগেইন ক্যাপিটালের অংশীদার জন কিলডাফ বলেন, ‘বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে ইরানের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। যদিও বাজারে ইরানকে কেন্দ্র করে অনেক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আগেই দামে প্রতিফলিত হয়েছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগস্টের শুরুর পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন, যা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তেহরান শুক্রবার জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কোনো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়।
প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সম্ভাব্য একটি যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত রয়েছে। এছাড়া ইরানের ওপর হামলা নাও হতে পারে। এমন সম্ভাবনার কারণে সাম্প্রতিক দামের উত্থান সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে।’
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অবস্থান জোরদার করা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতজন নাগরিক এবং অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ থাকা জ্বালানি তেল ক্ষেত্রগুলোয় উত্তোলন বাড়ছে। কাজাখস্তানও তেঙ্গিজ তেল ক্ষেত্রে উত্তোলন পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে। তাই সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’
এর আগে অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের ওপর চালানো এক জরিপের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালে জ্বালানি তেলের গড় দাম থাকবে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের আশপাশে। অতিরিক্ত সরবরাহ পণ্যটির দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও বাজারে এর দরপতনের যাত্রাকে সীমিত করে রাখবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।
জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্টের গড় দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার ২ সেন্ট। এ সময় প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে ৫৮ ডলার ৭২ সেন্টে।